Saturday, August 27, 2016

ট্রেডিং স্ট্রাটেজি -কি ভাবে সাজাবেন

ট্রেডিং স্ট্রাটেজি -




কি ?
যে কোন ব্যাবসায় একটা প্লানিং থাকতে হয়। সেই প্লানিং অনুযাই প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস প্রোসেস করা হয়। অতঃপর তা বাজারজাত করন করা হয়। রিসেলার বা ভোক্তাদের নিকট সরবরাহ করা হয়। এসব কিছুই একটা প্লানিং এর মাধ্যমে করা হয়। সফলতা আসে প্লানিং বাস্তবায়ন এর মাধ্যমে। মুলত যে কোন কিছুতেই প্লানিং এর প্রয়োজন আছে। ফরেক্স অনেক জটিল না হলেও সহজ নয়। তাই এখানে আগোছালোভাবে আগালে আপনি বেশিদুর জেতে পারবেন না। স্কুল থেকে ফরেক্স শিখার সময় আপনি অবশ্যি দেখছেন ট্রেডিং স্ট্রাটেজি কি। মুলত আপনি কত মিনিট এর চার্ট এ ট্রেড করবেন। আপনি কত পিপ স্টপ লস দিবেন। আপনার টেক প্রফিট কত হবে। এসবকিছুই ট্রেডিং স্ট্রাটেজির অন্তর্গত। আপনি কিভাবে মার্কেট এনালাইসিস করবেন। আপনি কোন ইন্ডিকেটর কোন সেটিং এ কোন টাইম ফ্রেম এ ব্যবহার করবেন।  এগুলো আগে ঠিক করে নিন। এগুলো ঠিক হয়ে গেলে এটার একটা নাম দিন। ডেমো করেন। ভালো মনে হলে তারপর আসল ডলার নিয়ে ভাবেন।


ট্রেডিং স্ট্রাটেজি কিভাবে বানাবেন ?
কোন স্কুল  থেকে ফরেক্স শিখছেন ? সব ফোরামেই কম বেশি ট্রেডিং স্ট্রাটেজি পাবেন। অনেকে তাদের ট্রেডিং স্ট্রাটেজি শেয়ার করছেন। তাদের ট্রেডিং স্ট্রাটেজি গুলো দেখেন। ডেমো করেন। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। আর অবশ্যি আপনি শিখেছেন কোন ইন্ডিকেটর কিভাবে কাজ করে। তা না হলে কিন্তু হবে না। যাই হোক। আমরা দেখি কিভাবে একটা ট্রেডিং স্ট্রাটেজি বানাতে হয়। যে সকল বেপার গুলো প্রথমে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে তা হল -

  • ১. টাইম ফ্রেম ঃ আপনি কোন টাইম ফ্রেম এ ট্রেড করবেন? এটা খুব গুরুত্তপুর্ন। আপনার যদি কম টাইম ফ্রেম এ ট্রেড করতে ইচ্ছে হয় তাহলে আপনাকে কম টার্গেট করতে হবে। বেশি টাইম ফ্রেম এ ট্রেড করলে বেশি টার্গেট করবেন। ভিন্ন রকম এনালাইসিস করতে হবে। তাই প্রথমে আপনার টাইম ফ্রেম ঠিক করে নিন।
  • ২. প্রফিট টার্গেট ঃ টাইম ফ্রেম অনুযাই আপনার প্রফিট টার্গেট ঠিক করবেন। টাইম ফ্রেম যদি ১৫মিনিট হয় তাহলে আপনি ১০০ পিপ প্রফিট টার্গেট করতে পারেন না। বাস্তবমুখি টার্গেট না করলে আপনি সফল হতে পারবেন না।
  • ৩. পেয়ার ঃ আপনার ব্রোকার এ হয়ত পেয়ার এর অভাব নাই। এতো পেয়ার দেখে মাথা নষ্ট না করে টপ ৫টা বা ১০টা পেয়ার সিলেক্ট করতে পারেন। কম স্প্রিড এবং ভালো মুভমেন্ট করে এমন পেয়ার সিলেক্ট করতে হবে। যারা স্ক্যাল্পিং করবেন তাদের জন্য EURUSD/GBPUSD/AUDUSD ছাড়া গতি নাই।
  • ৪. ট্রেডিং টাইম ঃ আপনি তো সারাদিন ট্রেড করতে পারবেন না। যাদের অনেক সময় তারা ইচ্ছা করলে স্ক্যাল্পিং এবং সুইং দুটোই করতে পারেন। আমি মনে করি স্ক্যাল্পিং করতে অনেক সময় লাগে। কেননা ভালো এন্ট্রি সব সময় দেওয়া যায় না। ভালো সিগনাল এর জন্য অনেক অপেক্ষা করতে হয়। তাই যাদের সময় কম তারা স্ক্যাল্পিং না করে সুইং করার চেস্টা করেন। স্ক্যাল্পিং করলে লন্ডন অথবা নিউ ইয়র্ক সেশন এ ট্রেড করা বেস্ট।
  • ৫. নিউজ ক্যালেন্ডার ঃ নিউজ নিয়ে ভাবতে বসলে আপনার দিন পার হয়ে যাবে। আপনার সময় বাচাতে বিভিন্ন ফরেক্স নিউজ ক্যালেন্ডার রয়েছে। এইসব ক্যালেন্ডারের সাথে আপনার ব্রোকার এর টাইম ম্যাচ করে নিন। যখন নিউজ আসবে তখন ২০মিনিট এর জন্য ট্রেডিং বন্ধ রাখতে পারেন। নিউজ বুঝে আবার নতুন করে শুরু করেন। আর সুইং ট্রেডার হলে নিউজ যদি আপনার বিপক্ষে যায় তাহলে এন্ট্রি ক্লোস করে দিন। তা না হলে আরো অনেক লস হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। মুলত একটা ভালো ক্যালেন্ডার অনুসরন করুন আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজির অংশ হিসেবে।  
  • ৬. ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর ঃ অনেক জায়গায় পড়ছেন "ট্রেন্ড ইজ ইয়ুর ফ্রেন্ড"। এর মানে হচ্ছে ট্রেন্ড হল আপনার বন্ধু। রাখেন না একটা বন্ধু আপনার সাথে! মুভিং এভারেজ হল সবচেয়ে ভালো ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর।
  • ৭. এন্ট্রি ইন্ডিকেটর ঃ আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি যদি কোন নির্দিষ্ট ইন্ডিকেটর উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে তাহলে সেটা ব্যাবহার করুন। ভালো হোক খারাপ হোক আগে স্ট্রাটেজি কম্পলিট করেন। তারপর ডেমো করলেই বুঝা যাবে আসল বেপার টা কি।
  • ৮.ফিল্টার ইন্ডিকেটর ঃ এন্ট্রি সিগনাল গুলো সবসময় ভালো কাজ করে না। করবেও না। তাই সিগনাল গুলো বেছে বেছে ট্রেড করতে হয়। যে যত বেশি বাছতে পারবেন, সে তত ভালো সিগনাল পাবেন। তাই আপনার এন্ট্রি ইন্ডিকেটর এর উপর এত বিশ্বাস না করে কিছু ফিল্টার ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করুন। মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর গুলো ভালো ফিল্টার এর কাজ করে।
  • ৯. এস আর ইন্ডিকেটর ঃ এস আর বলতে সাপোর্ট রেসিস্টেন্স বোঝানো হইছে। এস আর অনেক গুরুত্তপুর্ন বিষয় টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর জন্য। তাই সাপোর্ট এন্ড রেসিস্টেন্স এর জন্য ভালো কোন পিভোট অথবা ফিবোনিক ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করুন।
  • ১০. রিস্ক পার ট্রেড ঃ এটা প্রথমে থাকা উচিত ছিলো। যাই হোক, আপনি প্রতি ট্রেড এ কত টুকু রিস্ক নিতে পারবেন তা ঠিক করে রাখুন। এটা আপনার স্ট্রাটেজির অন্যতম উপাদান।
উপরে উল্লেখিত বেপার গুলো ছারাও আরো অনেক কিছু থাকতে পারে তবে এইসব অবশ্যি আপনার স্ট্রাটেজি তে থাকা চাই।

একটি উদাহরন -
বিডিপিপ্স.কম এ স্ট্রাটেজি সেকশন আছে। ওইখানে দেখবেন স্ট্রাটেজি এর ওভাব নাই। যেমন আমার নিজের দুইটা স্ট্রাটেজি আছে সেখানে। রিভেঞ্জ এ্যাটাক , আরেকটা হল রিভেঞ্জ এ্যাটাক ২। 


অসম্পুর্ন ট্রেডিং স্ট্রাটেজি -

নিজের জন্য ভালো মানায় এমন একটি স্ট্রাটেজি নিজের বানানো উচিত। অনেকে অনেক রকম এর ট্রেডিং স্ট্রাটেজি বানায়, কিন্তু ২/৩দিন ভালো কাজ করার পর কেমন জেনো হয়ে যায়! এরকম ঘটনা ৯৯% ঘটে। এগুলো কে অসম্পুর্ন ট্রেডিং স্ট্রাটেজি বলে। আপনার সেই অসম্পুর্ন ট্রেডিং স্ট্রাটেজি এর কনসেপ্ট যদি ভালো হয় তাহলে আমাকে জানাতে পারেন। আমি চেস্টা করব আপনার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি কে সম্পুর্ন করতে। বলে রাখা ভালো, এখানে সম্পুর্ন বলতে ১০০% কাজ করবে তা বুঝানো হয়নি। ১০০% কোন সিস্টেম ই কাজ করবে না।


প্রয়োজনীয়তা -
 যেহেতু ফরেক্স একটা ব্যাবসা। সেহেতু অবশ্যই একটা নিয়ম এর ভিতর আপনার ব্যাবসায় পরিচালনা করতে হবে। আগোছালোভাবে কখনই আপনি সাফল্যতা অর্জন করতে পারবেন না। তাছারা আপনি যখন এন্ট্রি দিবেন তা কিসের উপর ভিত্তি করে দিবেন ? আপনার এনালাইসিস কিভাবে করবেন ? আপনার লট কত হবে ? আপনার সামগ্রিক ট্রেডিং ব্যবস্থাটি একটা নির্দিস্ট নিয়ম এর মাঝে দিয়ে পরিচালনা করতে হবে। আজকে একরকম ট্রেড করলেন কালকে আরেক রকম ট্রেড করলেন আবার পরশু আরেক ভাবে! তার পরের দিন দেখবেন আপনার একাউন্ট জিরো।


ট্রেডিং স্ট্রাটেজি নিয়ে আরো অনেক কিছু লেখার ছিল। কিন্তু পারলাম না আসুস্থতার কারনে। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করবেন।

1 comment:

  1. শুভেচ্ছা জানাচ্ছি,

    আমি হেমা ইন্সটাফরেক্স পার্টনার ম্যানেজার।

    আমরা আপনাকে প্রস্তাব জানাতে চাই ইন্সটাফরেক্স পার্টনার প্রোগ্রামে যেখানে আপনি কমিশন পাবেন আপনার প্রতিটা গ্রাহক থেকে। গ্রাহকদের থেকে প্রাপ্ত কমিশন আপনার অ্যাকাউন্ট এ জমা হয়ে যাবে যেটা আপনি সহজেই উত্তোলন করতে পাড়বেন। এর জন্য আপনাকে কোন ইনভেস্ট বা ট্রেড করতে হবে না ।

    আপনি যদি আগ্রহী হন অথবা যদি কোন প্রশ্ন থাকে নিঃসংকোচে আমার সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা কৃতার্থ হব আমাদের পরস্পরের লাভ সম্পর্কে আলোচনা করতে । আমাদের এই প্রস্তাব সম্পর্কে আপনার মতামত অবশ্যই আমাকে জানাবেন।

    ধন্যবাদ। অপেক্ষা করছি আপনার আগ্রহ সম্পর্কে জানতে।

    ReplyDelete